
কক্সবাজারে পর্যাপ্ত বরাদ্দের পরও সার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের কারণে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না তারা। চলতি বছরের জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে পাচারের সময় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৮ কেজি সার জব্দ করেছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৬ হাজার টন। গত সেপ্টেম্বরেও চাহিদার চেয়ে বেশি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অতিরিক্ত বরাদ্দের পরও সংকট কাটছে না। ডিলারের দোকানে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মিয়ানমারে বাংলাদেশের তুলনায় সারের দাম কয়েকগুণ বেশি। সেখানে এক বস্তা ইউরিয়া প্রায় ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বাংলাদেশে এর দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। সীমান্ত এলাকায় সার অনেক ক্ষেত্রে মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে পণ্য বিনিময় পদ্ধতিতে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উখিয়া ও টেকনাফের অন্তত ১৫টি পয়েন্ট এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে সার পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থলপথের পাশাপাশি নদী ও সমুদ্রপথেও পাচার হচ্ছে। জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোস্টগার্ড ও বিজিবি প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার কেজি সার জব্দের পাশাপাশি ১১৭ জনকে আটক করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের বড় অংশই সাধারণ বহনকারী; পাচারের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
কোস্টগার্ড ও বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, এ সময় কোস্টগার্ড ১ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ কেজি সার জব্দ করে ৭২ জনকে আটক করেছে। বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবির ইউনিটগুলোও বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করেছে এবং উখিয়া ও টেকনাফ থেকে ৪৫ জনকে আটক করে মামলা করেছে।
সার পাচারের সঙ্গে কিছু ডিলারের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজন ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কৃষকদের হাতে সরাসরি সার পৌঁছে দিতে বিতরণব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি মৌসুমে জেলার চাহিদার তুলনায় বেশি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে তারা পাচার ও বিতরণব্যবস্থার অনিয়মকে দেখছেন। অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সার পাচারের সঙ্গে মাদক ও মানবপাচারে জড়িত চক্রগুলোরও যোগসূত্র রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে নজরদারি ও সার বিতরণে কঠোরতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।